ঢাকায় নিরাপদ যাতায়াত: কোথায় বাস, কোথায় রিকশা—দিন ও রাতের ব্যবহারিক গাইড
ঢাকায় লোকাল বাস ও রিকশায় যাত্রা পরিকল্পনা, ওঠানামার সময় মোবাইলের নিরাপত্তা, রাতের শেষ অংশের পথ এবং বিপদে করণীয় নিয়ে বিস্তারিত বাংলা গাইড।
By Raihan Miraj
Published · Updated
তথ্য যাচাই: ১১ অক্টোবর ২০২৬, বাংলাদেশ সময়। সাম্প্রতিক পুলিশি প্রতিবেদন ও সরকারি নিরাপত্তা পরামর্শের ভিত্তিতে এই গাইড তৈরি। নিচের পথের উদাহরণগুলো পরিকল্পনা বোঝানোর জন্য; এগুলো লাইভ বাসের সময়সূচি, অপরাধের হটস্পট মানচিত্র বা নিরাপত্তার নিশ্চয়তা নয়।
অফিস, কলেজ বা বাজারে যাওয়ার সময় ঢাকার যাত্রীকে একসঙ্গে তিনটি বিষয় ভাবতে হয়: কত খরচ হবে, কত সময় লাগবে এবং পুরো পথটি কীভাবে তুলনামূলক কম ঝুঁকিতে শেষ করবেন। শুধু “বাস না রিকশা” প্রশ্নের উত্তর যথেষ্ট নয়। বাসস্টপে অপেক্ষা, গাড়িতে ওঠানামা, রাস্তা পার হওয়া এবং স্টপ থেকে বাড়ির শেষ অংশ—সব মিলিয়েই যাত্রা।
সাম্প্রতিক ঘটনা কী বলছে, আর কী বলছে না
ডিএমপি নিউজের ৬ অক্টোবর ২০২৬-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ৫ অক্টোবর রাত আনুমানিক ৮টা ৫ মিনিটে যাত্রাবাড়ী-মাওয়া মুখ এলাকায় এক যাত্রী বাসে ওঠার সময় তাঁর পকেট থেকে মোবাইল ছিনিয়ে নেওয়া হয়। দায়িত্বে থাকা ট্রাফিক পুলিশ একজনকে আটক করে ফোনটি উদ্ধার করে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। এখানে ঘটনার দিন ৫ অক্টোবর, সংবাদ প্রকাশের দিন ৬ অক্টোবর।
ঘটনাটি ওঠানামার মুহূর্তে ব্যক্তিগত জিনিসের নিরাপত্তা কেন জরুরি, তার একটি উদাহরণ। কিন্তু একটি ঘটনা দিয়ে যাত্রাবাড়ীর প্রতিটি স্টপকে ঝুঁকিপূর্ণ, অথবা পুরো শহরে প্রতিদিন অপরাধ বেড়েই চলেছে—এমন সিদ্ধান্ত দেওয়া যায় না। আটক হওয়ার খবরও আদালতে অপরাধ প্রমাণিত হওয়ার সমার্থক নয়।
বর্তমান সরকারের সময়ে আইনশৃঙ্খলা নিয়ে উদ্বেগ থাকতেই পারে। তবে বিএনপি বা কোনো রাজনৈতিক দলকে নির্দিষ্ট অপরাধের জন্য দায়ী করতে যাচাই করা প্রমাণ দরকার। সরকার পরিবর্তনের আগে-পরে অপরাধ বেড়েছে কি না জানতে একই সংজ্ঞা ও সময়সীমার মামলা, অভিযোগ এবং জনসংখ্যা-সমন্বিত তথ্য তুলনা প্রয়োজন। এই গাইড সেই রাজনৈতিক বা পরিসংখ্যানগত সিদ্ধান্ত দাবি করছে না; এর লক্ষ্য দৈনন্দিন যাত্রায় কাজে লাগার মতো সিদ্ধান্ত নেওয়া।
নিরাপত্তা বিশ্লেষণ: যাত্রাকে চার অংশে ভাগ করুন
| অংশ | কী দেখবেন | কীভাবে পরিকল্পনা করবেন |
|---|---|---|
| বাসস্টপে পৌঁছানো | ফুটপাত, আলো, রাস্তা পারাপার | চেনা পথ ও নির্ধারিত পারাপার বেছে নিন |
| অপেক্ষা ও ওঠানামা | দরজার ভিড়, পকেট, বাস সম্পূর্ণ থেমেছে কি না | ফোন গুছিয়ে রাখুন; থামা গাড়িতে উঠুন |
| মূল যাত্রা | রুট, গন্তব্য, চালনা ও বের হওয়ার পথ | গন্তব্য নিশ্চিত করুন; দরজায় ঝুলবেন না |
| স্টপ থেকে গন্তব্য | দূরত্ব, আলো, লোকজন, রাতের অবস্থা | আগেই হাঁটা/রিকশা/পরিচিত সহায়তার বিকল্প রাখুন |
এই কাঠামো আমাদের ব্যবহারিক বিশ্লেষণ, কোনো পরীক্ষিত অপরাধ-ঝুঁকির স্কোর নয়। একই রাস্তা দিনের ব্যস্ত সময়ে ও রাতের নির্জন সময়ে ভিন্ন অভিজ্ঞতা দিতে পারে। আবার অতিরিক্ত ভিড়ে পকেটমারের সুযোগ থাকলেও সম্পূর্ণ ফাঁকা অপেক্ষার জায়গায় সহায়তা পাওয়া কঠিন হতে পারে। লোকজন আছে মানেই নিরাপদ—এমন নিশ্চয়তা নেই; আলো, দৃশ্যমানতা ও সাহায্য পাওয়ার সুযোগ একসঙ্গে বিবেচনা করুন।
কখন লোকাল বাস বেছে নেবেন?
দূরের যাত্রায় পরিচিত প্রধান সড়ক ধরে বাসে যাওয়া এবং গন্তব্যের কাছে নেমে শেষ অংশ আলাদাভাবে শেষ করা বাস্তবসম্মত হতে পারে। ওঠার আগে নিশ্চিত করুন বাসটি আপনার প্রয়োজনীয় স্টপে যায় কি না, কোন দিকে যাচ্ছে এবং কোথায় নামাবে। রুটের নাম শুনেই অনুমান না করে নির্দিষ্ট স্টপের নাম বলুন।
সম্ভব হলে এমন যাত্রা পরিকল্পনা করুন যাতে বাস বদল কম লাগে এবং অপরিচিত জায়গায় দীর্ঘ অপেক্ষা করতে না হয়। অবশ্য সরাসরি বাস পাওয়া মানেই নিরাপদ নয়: গাড়ির অবস্থান, দৃশ্যমান যাত্রী, চালনা ও নামার জায়গাও দেখুন। সন্দেহজনক পরিস্থিতিতে শুধু কম ভাড়ার কারণে ওঠার সিদ্ধান্ত নেবেন না।
ডিএমপির সড়ক নিরাপত্তা নির্দেশনায় চলন্ত গাড়িতে ওঠানামা থেকে বিরত থাকা, নির্দিষ্ট স্থান থেকে ওঠানামা এবং বাসের পাদানিতে ভ্রমণ না করার পরামর্শ রয়েছে। ভিড়ের চাপে বাস ছাড়তে শুরু করলে পরের গাড়ির জন্য অপেক্ষা করুন। চালকের দৃষ্টিসীমায় থাকুন, কিন্তু চলার সময় তাঁকে কথায় ব্যস্ত করবেন না।
কখন রিকশা কাজে আসে?
বাসস্টপ থেকে বাসা, বাজার বা প্রতিষ্ঠানের গেট পর্যন্ত ছোট সংযোগপথে রিকশা সুবিধাজনক হতে পারে—বিশেষ করে ব্যাগ, শিশু, বয়স্ক সহযাত্রী বা হাঁটার অসুবিধা থাকলে। তবে রিকশা পুরো শহরের দীর্ঘ যাত্রার বিকল্প হিসেবে সব সময় সময়সাশ্রয়ী বা সাশ্রয়ী হবে না।
উঠার আগে ভাড়া, গন্তব্যের গেট এবং পরিচিত রাস্তা ঠিক করুন। চালক “শর্টকাট” বললেই অপরিচিত নির্জন গলিতে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেবেন না। স্থানীয় ট্রাফিক নির্দেশনা ও কোন রাস্তায় ওই বাহন চলতে দেওয়া হচ্ছে তা দেখে নিন; এখানে কোনো নির্দিষ্ট প্রধান সড়কে রিকশা চলার অনুমতি ধরে নেওয়া হয়নি।
রিকশায় খোলা জায়গায় ফোন বা ব্যাগ রাখলে ছোঁ মেরে নেওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে। ব্যাগ নিজের নিয়ন্ত্রণে রাখুন; মূল্যবান জিনিস প্রদর্শন কমান। সড়কে অনিরাপদ গতিবিধি বা অচেনা পথে পরিবর্তন দেখলে শান্তভাবে পরিচিত আলোকিত স্থানে থামতে বলুন, পরিস্থিতি নিরাপদ থাকলে। বাহনের ধরন একাই অপরাধের ঝুঁকি দূর করে না।
হাঁটা, বাস না রিকশা: দ্রুত সিদ্ধান্তের ছক
| পরিস্থিতি | বিবেচনার বিকল্প | চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের আগে |
|---|---|---|
| দিনে পরিচিত ছোট পথ, ভালো ফুটপাত | হাঁটা | পারাপার ও শারীরিক সক্ষমতা দেখুন |
| দীর্ঘ যাত্রা, পরিচিত বাসের করিডর | বাস + প্রয়োজনে ছোট সংযোগযাত্রা | স্টপ ও বাস বদলের প্রয়োজন যাচাই করুন |
| স্টপ থেকে গেট দূরে, ব্যাগ বা হাঁটার অসুবিধা | রিকশায় শেষ অংশ | ভাড়া, রাস্তা ও নামার জায়গা ঠিক করুন |
| রাতে স্টপ থেকে নির্জন অংশ | আগে ঠিক করা বাহন বা পরিচিত কারও সহায়তা | অপেক্ষার জায়গা ও গাড়ির পরিচয় যাচাই করুন |
| পরিস্থিতি অস্বাভাবিক, রাস্তা বন্ধ বা বিশৃঙ্খলা | আলোকিত জনসমাগমস্থলে থেকে পরিকল্পনা বদল | বর্তমান অবস্থা জেনে তারপর রওনা হন |
ঢাকার তিনটি যাত্রা: কীভাবে পরিকল্পনা করবেন
মিরপুরের বাসা থেকে ফার্মগেট: আগে বাসা থেকে আপনার পরিচিত প্রধান সড়কের স্টপে যাওয়ার পথ ঠিক করুন। ভেতরের পাড়া থেকে হাঁটা কঠিন হলে অনুমোদিত ও পরিচিত রাস্তা ধরে ছোট রিকশাযাত্রা বিবেচনা করুন। স্টপে ফার্মগেট যায় কি না নিশ্চিত করে বাসে উঠুন। গন্তব্যের সঠিক পাশে নামা ও নিরাপদ পারাপার আগে ভাবুন। এটি কোনো নির্দিষ্ট কোম্পানির বর্তমান রুটের নিশ্চয়তা নয়।
মিরপুর থেকে ঢাকা কলেজ: গন্তব্য ঢাকা কলেজের কোন গেট, তা আগে ঠিক করুন। বাসটি নিউমার্কেট/সায়েন্স ল্যাবের প্রয়োজনীয় স্টপে যায় কি না যাচাই করুন; না গেলে কোথায় বদলাতে হবে জেনে নিন। নামার পর ফুটপাত ও নির্ধারিত পারাপার ব্যবহার করুন। গেট পর্যন্ত ছোট রিকশাযাত্রা দরকার হলে সেই অংশের ভাড়া ও রাস্তা আলাদাভাবে ঠিক করুন।
রাতে অফিস থেকে বাসায় ফেরা: বের হওয়ার আগেই শেষ বাসের বাস্তব অবস্থা, কোথায় নামবেন এবং সেখান থেকে বাসার সংযোগ ঠিক করুন। বাসা পর্যন্ত বাকি অংশ নির্জন হলে পরিচিত কাউকে নিতে বলা বা আগে ঠিক করা যাচাইযোগ্য বাহনের ব্যবস্থা বিবেচনা করুন। শুধু স্টপে পৌঁছে তারপর বিকল্প খোঁজার ওপর নির্ভর করলে অপেক্ষা দীর্ঘ হতে পারে।
নির্দিষ্ট বাস কোম্পানি, ছাড়ার সময় ও স্টপ বদলাতে পারে। একই দিনের স্থানীয় তথ্য যাচাই ছাড়া এই উদাহরণগুলোকে পূর্ণ রুট নির্দেশনা হিসেবে ব্যবহার করবেন না। কোনো স্টপ বা এলাকার জন্য বর্তমান অপরাধের পরিমাপ আমাদের হাতে নেই।
রাতের যাত্রায় পাঁচটি প্রস্তুতি
১. শেষ অংশ আগে ঠিক করুন: কোন স্টপে নামবেন, বাড়ির পথে আলো ও লোকজন থাকবে কি না, সংযোগ বাহন না পেলে কী করবেন—আগেই সিদ্ধান্ত নিন। রাতের সময়সীমা দিয়ে পুরো শহরকে নিরাপদ বা অনিরাপদ ঘোষণা করা যায় না।
২. যোগাযোগ সচল রাখুন: ফোনে চার্জ ও যোগাযোগের ব্যবস্থা রাখুন। বিশ্বস্ত কাউকে সম্ভাব্য পৌঁছানোর সময় জানান। প্রয়োজনে তাঁর সঙ্গে সাময়িক লোকেশন শেয়ার করুন; প্রকাশ্য পোস্টে বাড়ির ঠিকানা বা লাইভ অবস্থান দেবেন না।
৩. অপেক্ষার স্থান বেছে নিন: নির্ধারিত স্টপের কাছে আলো, খোলা প্রতিষ্ঠান, যাত্রী ও দায়িত্বে থাকা কর্মী আছে কি না দেখুন। দোকান আছে বলে জায়গাটিকে নিশ্চিত নিরাপদ ধরে নেবেন না। বন্ধ দোকানের সামনে একা দাঁড়িয়ে থাকার চেয়ে বাস্তবে সহায়তা পাওয়া যায় এমন জায়গা বিবেচনা করুন।
৪. হঠাৎ লিফটের প্রস্তাব যাচাই করুন: অচেনা ব্যক্তিগত গাড়ি বা অনির্দিষ্ট যাত্রীপরিবহনে শুধুমাত্র কম ভাড়ার প্রস্তাবে উঠে পড়বেন না। অ্যাপে বুকিং হলে প্রদর্শিত গাড়ি ও চালকের পরিচয় মিলিয়ে নিন। অ্যাপ ব্যবহারও নিরাপত্তার নিশ্চয়তা নয়।
৫. পরিস্থিতি বদলালে পরিকল্পনা বদলান: রাস্তা বন্ধ, অস্বাভাবিক ভিড় বা বিশৃঙ্খলা দেখলে কাছের নিরাপদ অবস্থানে থেকে বর্তমান খবর ও বিকল্প জানুন। ঘটনাস্থলে ছবি তুলতে গিয়ে থামবেন না। অচেনা অন্ধকার শর্টকাট দিয়ে বের হওয়ার চেষ্টা করবেন না।
মোবাইল, টাকা ও ব্যাগ: ভিড়ের মুহূর্তে প্রস্তুত থাকুন
বাসের দরজায় পৌঁছানোর আগেই ফোন গুছিয়ে রাখুন এবং প্রয়োজনীয় ভাড়া আলাদা করুন। দরজার ধাক্কাধাক্কিতে পেছনের পকেট বা খোলা ব্যাগে মূল্যবান জিনিস রাখবেন না। বাসে জানালার বাইরে ফোন ধরে ছবি বা কল করা এড়িয়ে চলুন। সম্ভব হলে বসে বা স্থির হয়ে ফোন ব্যবহার করুন; রাস্তা পারাপারের সময় নয়।
ফোনের স্ক্রিন লক ও অ্যাকাউন্ট সুরক্ষা সক্রিয় রাখুন। জরুরি যোগাযোগের একটি বিকল্প নম্বর ও ফোনের শনাক্তকারী তথ্য নিরাপদে অন্যত্র সংরক্ষণ করা সহায়ক হতে পারে। অপরিচিত কাউকে ব্যাংক বা মোবাইল আর্থিক সেবার PIN/OTP দেবেন না।
ডিএমপির নির্দেশনা অনুযায়ী, ভ্রমণের সময় অপরিচিতের দেওয়া খাবার গ্রহণ করবেন না। প্রয়োজনীয় পানি বা খাবার নিজে সঙ্গে রাখুন। সাহায্যের প্রস্তাব যাচাই করুন, কিন্তু পোশাক, বয়স বা পেশা দেখে কাউকে অপরাধী ধরে নেবেন না।
হয়রানি বা হুমকি অনুভব করলে
পরিস্থিতি নিরাপদ থাকলে অন্য যাত্রী বা কর্মীদের নির্দিষ্ট করে সাহায্য চান। নিরাপদ জনসমাগমপূর্ণ স্টপে নামার সুযোগ বিবেচনা করুন; চলন্ত গাড়ি থেকে নামবেন না। ভুক্তভোগীর নিরাপত্তা ও সিদ্ধান্তকে সম্মান করুন—দায় তাঁর পোশাক, সময় বা একা চলাচলের নয়।
তাৎক্ষণিক বিপদে নিজের জীবন ও শারীরিক নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দিন। অস্ত্রধারীকে ধরার চেষ্টা, ধাওয়া বা ঝুঁকি নিয়ে ভিডিও করার প্রয়োজন নেই। নিরাপদ অবস্থানে যেতে পারলে সাহায্য চান। কাছাকাছি পুলিশ থাকলে জানান।
জরুরি সহায়তা: ৯৯৯-এ কী জানাবেন?
পুলিশ টেলিকম সংস্থার সরকারি তথ্য অনুযায়ী, জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ সপ্তাহে সাত দিন, ২৪ ঘণ্টা চালু এবং নম্বরটিতে কল টোল ফ্রি। জরুরি পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও অ্যাম্বুলেন্স সহায়তার জন্য যোগাযোগ করা যায়। কল বিনামূল্যে হওয়ার অর্থ সব ধরনের পরিবহন বা চিকিৎসা সেবাও বিনামূল্যে—এমন নয়।
কল করার সুযোগ নিরাপদ হলে বলুন: কী ঘটছে, আপনার বর্তমান স্থান ও কাছের চেনা স্থাপনা, বাসের রুট বা চলার দিক এবং গাড়ির নম্বর জানা থাকলে সেটি। ফোন না থাকলে কাছের দায়িত্বশীল ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের সাহায্যে কল করতে বলুন। অপারেটরের নির্দেশনা অনুসরণ করুন; নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সহায়তা পৌঁছাবে বলে এই লেখা প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে না।
ঘটনার পরে নিরাপদে সম্ভব হলে সময়, স্থান, গাড়ির পরিচয়, টিকিট ও ঘটনার বিবরণ লিখে রাখুন। প্রমাণ সংরক্ষণ করুন; সামাজিক মাধ্যমে কারও ব্যক্তিগত তথ্য ছড়াবেন না। চুরি বা ছিনতাই হলে সংশ্লিষ্ট থানায় অভিযোগের উপযুক্ত প্রক্রিয়া সম্পর্কে যোগাযোগ করুন।
কম খরচ আর নিরাপত্তা: পুরো যাত্রার বাজেট ধরুন
একটি বাসভাড়া দেখে মোট খরচ বিচার করবেন না। হিসাব করুন: বাড়ি থেকে স্টপ + মূল যাত্রা + স্টপ থেকে গন্তব্য + প্রয়োজনীয় ফেরার বিকল্প। উদাহরণ হিসেবে ধরা যাক বাসে ৩০ টাকা এবং শেষ অংশে রিকশায় ৪০ টাকা—মোট ৭০ টাকা। এটি পরিকল্পনার নমুনা, ঢাকার কোনো নির্দিষ্ট রুটের বর্তমান ভাড়া নয়।
দিনে একই ছোট অংশ হাঁটা সম্ভব হলেও রাতে পরিস্থিতি আলাদা হতে পারে। তাই হাতে বিকল্প যাত্রার সামান্য বাজেট রাখা যুক্তিযুক্ত। বেশি টাকা খরচ করলেই নিরাপত্তা নিশ্চিত হয় না; বাহন, পথ ও সময়ের বাস্তব অবস্থা যাচাই করাই গুরুত্বপূর্ণ। ওঠার আগে দাবিকৃত ভাড়া ও গন্তব্য মিলিয়ে নিলে বিরোধের সুযোগও কমে।
বের হওয়ার আগে এক মিনিটের যাচাই
আমার স্টপ ও গন্তব্য জানা আছে? বাসটি সেখানে যায়? শেষ অংশের পথ চেনা? ফোনে চার্জ আছে? জরুরি যোগাযোগ জানি? ফোন ও টাকা গুছিয়ে রেখেছি? গাড়ি না পেলে বিকল্প আছে? এই সাতটি প্রশ্নের উত্তর যাত্রা পরিকল্পনাকে পরিষ্কার করবে। কোনো অস্বস্তিকর পরিস্থিতিতে পরিকল্পনা বদলাতে দ্বিধা করবেন না।
ব্যক্তিগত সতর্কতা কিছু ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করতে পারে; অপরাধের দায় অপরাধীর এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের। নিরাপদ স্টপ, আলো, ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ, চালকের নিয়ম মানা ও কার্যকর পুলিশি সহায়তা ছাড়া শুধু যাত্রীকে সতর্ক থাকতে বলাই যথেষ্ট নয়।
সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট
সংবাদ থেকে পাওয়া তথ্য ও এই লেখার পরিকল্পনামূলক বিশ্লেষণ আলাদা করে উপস্থাপন করা হয়েছে। পুরোনো সংবাদকে নতুন ঘটনা হিসেবে ব্যবহার করা হয়নি। বাহন বাছাইয়ের ছক ও পথের উদাহরণ কোনো পরিমাপ করা নিরাপত্তা রেটিং নয়। প্রচ্ছদটি AI দিয়ে তৈরি কাল্পনিক দৃশ্য, বাস্তব ঘটনার ছবি নয়।
ডিএমপি নিউজ: বাসে ওঠার সময় মোবাইল ছিনতাই; প্রকাশ ৬ অক্টোবর ২০২৬, ঘটনা ৫ অক্টোবর। সূত্র: https://dmpnews.org/বাসে-ওঠার-সময়-মোবাইল-ছিন/
ডিএমপি: যাত্রী ও পথচারীর সড়ক নিরাপত্তা নির্দেশনা; যাচাই ১১ অক্টোবর ২০২৬। সূত্র: https://dmp.gov.bd/road-safety/
পুলিশ টেলিকম সংস্থা: জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯; যাচাই ১১ অক্টোবর ২০২৬। সূত্র: https://telecom-police.portal.gov.bd/pages/static-pages/695e3b0cc4774958d7b72321
Related reading
বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা থেকে ঢাকা চিড়িয়াখানা: বাস ও বিকল্প পথ
বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা থেকে ঢাকা চিড়িয়াখানা যেতে কোথায় বাস ধরবেন, মিরপুর ১-এ নামা, বদল, রিকশা–CNG ও ভাড়া যাচাইয়ের গাইড।
Read article →শিবালয়ে বাস–অটোরিকশা সংঘর্ষে ২ মৃত্যু: সেলফি পরিবহন সাময়িক বন্ধ
মানিকগঞ্জের শিবালয়ে বাস–অটোরিকশা সংঘর্ষে দুই মৃত্যুর পর সেলফি পরিবহন সাময়িক বন্ধ। প্রতিবেদনগুলোর অমিল, permit তথ্য ও যাত্রীপ্রভাব।
Read article →ঢাকা থেকে সাভার জাতীয় স্মৃতিসৌধ: বাস, নামার স্টপ ও শেষ পথের গাইড
ঢাকা থেকে সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধ যেতে গাবতলী, গুলিস্তান–ফার্মগেট ও বাড্ডা–আশুলিয়া করিডরের বাস, নবীনগরে নামা এবং শেষ পথের ব্যবহারিক নির্দেশনা।
Read article →